ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দিনের বেলায় ছাত্রদের নিকট থেকে দুটি মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামি কাকন মিয়া ও মাসুদ মোল্যাকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে পৌরসভার ছোলনা ও চতুল গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতে চালান করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ।
জানা যায়, গত বুধবার কাদিরদী কলেজের ইন্টারের ৪ ছাত্র নাফিজ ইকবাল, তারিকুল ইসলাম, রাতুল ও রাহাদ বোয়ালমারী রেল স্টেশনে বসে ছিল। এ সময় পৌরসভার ছোলনা গ্রামের কাকন মিয়া গিয়ে এক ছাত্রকে বলে তাকে হাসপাতালের সামনে নামিয়ে দিতে। কাকন ওই ছাত্রকে নিয়ে হাসপাতাল হয়ে হ্যালিপোর্টের সামনে চলে যায়। ওই ছাত্রকে দিয়ে অন্য তিন ছাত্রকে সেখানে ডেকে নেয়। কাকন আরও ৩জন সঙ্গীকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদের গলায় ছুরি ধরে দুটি মোটরসাইকেল, মোবাইল, টাকা নিয়ে চলে যায়।
গত বুধবার রাতেই বিভিন্ন মাধ্যমে ছাত্র ও এলাকাবাসীর তৎপরতায় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অন্য মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকা না পেয়ে কাদিরদী গ্রামের মো. সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে মো. সোহান বিশ্বাস কাকনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ৩ জনের নাম দিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর জের ধরে কাদিরদী কলেজের ছাত্র ও এলাকাবাসী গত বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেল ফেরত, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ফরিদপুর-বোয়ালমারী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে।
বোয়ালমারী এলাকার মানুষের মোটরসাইকেল আটক করে তারা। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে নানা ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহামাদুল হাসান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টুর মধ্যস্ততায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এবং পুলিশের আশ্বাসে ছাত্র জনতা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতেই দ্রুত বিচার আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নং ১৮। রাতেই কাকন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ ও সেনাবাহিনী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক বোরহান উদ্দীন মোল্যা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতেই ওসি মাহামুদুল হাসানের নেতৃত্বে ওসি (তদন্ত) আল আমিন, এসআই দেওয়ান শামীম খান, আমি নিজে এবং সেনাবাহিনী মিলে অভিযান শুরু করি। আসামি গ্রেপ্তারের পর কাকনের নিকট থেকে অপর একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি চাকুও জব্দ করা হয়।
বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, সোহান বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা রেকর্ড করে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
টিএইচ