শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫
ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
The Daily Post

কাহালুতে লোকসানের আশঙ্কায় আলু চাষিরা

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি 

কাহালুতে লোকসানের আশঙ্কায় আলু চাষিরা

চলতি রবি শস্য মৌসুমে বগুড়ার কাহালুতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উপজেলার নয়টি  ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায়  ৭ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ৯৩০ হেক্টর বেশি।

বুকভরা স্বপ্নে চাষিরা দিনভর আলুর গাছ পরিচর্যায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করলেও আলুর দাম নিম্নমুখী হওয়ায় তাদের স্বপ্ন ভঙ্গের আশঙ্কা দানা বেঁধেছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুক্ষেতে তেমন একটা রোগ বালাই নেই।  আবাদও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার কিছু এলাকায় জমি থেকে আগাম আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। বর্তমান হাট-বাজারে আলুর দাম দিন দিন কমে আসায়  উপযুক্ত  দাম  নিয়ে শঙ্কায় আলু চাষিরা। আলু বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও  শ্রমিক খরচসহ আলু চাষে খরচের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ে বড় দুশ্চিন্তা রয়েছেন আলু চাষিরা। আলুর ভরা মৌসুমে হাট বাজারের দাম আরও কমবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

একই জমিতে রোপা আমন ও ইরি বোরো ধানের আবাদ হলেও সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বাড়তি ফসল হিসেবে রবি শস্য মৌসুমে কৃষকরা আলু ও সরিষা চাষ করে থাকেন।

হেমন্তকালে রোপা আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই চাষিরা রবি শস্য চাষে ঝুঁকে পড়েন। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে  জমিতে আলু বীজ রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় এবার আলু আবাদে কিছুটা সময় ক্ষেপণ হয়েছে বলে জানান আলু চাষিরা।

কাহালু উপজেলার আলু  চাষিদের উৎপাদিত আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষণ থাকায়  আলু বীজ রোপণের সময় বীজ আলুর খুব একটা সংকট দেখা না দিলেও বাজারে হঠাৎ করে বীজ আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েন আলু চাষিরা।

১ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করতে ১শ থেকে ১২০ কেজি আলু বীজের প্রয়োজন হয়।  আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রবি শস্য মৌসুমে আলুর ভালো ফলনের আশা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস।

এদিকে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠ পর্যায়ে আলুগাছ পরিচর্যায় চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নয়টি  ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৬ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

আলু চাষিরা অধিক ফলনের আশায় জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন। এরমধ্যে ফাটা পাকড়ি, তেল পাকড়ি, বট পাকড়ি, কালো পাকড়ি, রোমানা কার্ডিনাল, স্টিক, ডায়মন্ড, এ্যালভেরি উন্নত জাতের আলু উল্লেখযোগ্য।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের বুড়ইল গ্রামের আলু চাষি মো. আবুল কাশেম, পাইকড় ইউনিয়নের মালিগাছা গ্রামের আবু ছালিক ও পৌর এলাকার সারাই গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে আলু আবাদে জমি চাষ, বীজ ক্রয়, রাসায়নিক, জৈব সার, বালাইনাশক ওষুধ প্রয়োগ, পানিসেচ, শ্রমিক মজুরিসহ নানা খরচে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এ হিসেবে এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের আলু উৎপাদন হয়  ৫০-৬০ মণ,  আর কার্ডিনাল জাতের আলু ৭০/৮০ মণ।

গত মৌসুমে আলুর দাম বাজারে নিয়ন্ত্রণহীন থাকায় কেজিতে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও এ মৌসুমে  শীতকালীন সবজির সঙ্গে বাজারে নতুন আলু আসায় খুচরা পর্যায়ে ২০-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

আলু উত্তোলনের ভরা মৌসুমে আলুর উপযুক্ত দাম না পেলে কৃষকরা আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে বলে জানান মৌসুমি আলু ব্যবসায়ীরা। মার্চ মাসে  হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ  করতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হাটবাজারে আলু কেনা শুরু করলে  আলুর উপযুক্ত দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন চাষিরা।

এছাড়া একই  জমিতে  ইরি বোরো ধান রোপণ  করার সময় শুধু পানি সেচ, নিড়ানি ও ওষুধ প্রয়োগ ছাড়া তেমন কোন খরচ হয়না। রাসায়নিক ও জৈব সার প্রয়োগে জমিতে উর্বরা শক্তি বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন ধানের অধিক ফলন পাওয়া যায়, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নিয়া যায়।

টিএইচ