পিরোজপুরের নাজিরপুরে ২০২২ সালে কর্ণখালী খালের ওপরে পিরোজপুর বিএডিসির (ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প) আওতায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর একদিনের জন্য কাজে আসিনি রাবার ড্যামটি। অথচ ২০০ হেক্টর ফসলি জমিতে সেচ দেয়ার জন্য ড্যামটির গুরুত্ব অনেক বেশি।
কৃষকদের চাঁদার টাকায় তেল কিনে ড্রামের রাবার ব্যাগ ফুলানো হলেও পানি ধরে রাখতে পারছে না। এর ফলে ডুবছে ফসলের মাঠ, ভেঙে যাচ্ছে গ্রামের আসে পাশের বসতি, রাস্তা ঘাট ও কবরস্থান। এমন পরিস্থিতির জন্য কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারকে দুষছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ফসলের মাঠে এখন বোরো ধানের বীজ বোনার সময়। শুধু ধান নয় মৌসুমি শাকসবজি আবাদে ব্যস্ত নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের ৫ শতাধিক চাষি। কিন্তু কৃষকের কৃষি খাতে স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জোয়ারের পানি। কৃষকরা জানান, জমিতে পানি উঠলে একরকম শ্যাওলা হয়। যেটাকে লোদাশ্যাওলা বলে। স্থানীয় ভাষায় ওটাকে চুনা শ্যাওলা বলা হয়। ওই শ্যাওলা জমিতে হলে ধানের গুচি নষ্ট হয়ে যায়।
ফসলের মাঠে সেচ সুবিধার্থে ২০২২ সালে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় কর্ণখালী খালের উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বিএডিসি। কিন্তু সংকট সমাধান তো দূরের কথা উলটো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ প্রকল্প।
স্থানীয়রা বলেন, দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রাবার ড্যাম নির্মাণের কাজ করেন মঠবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান বাইজিদ আহমেদ খান। তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিম্নমানের কাজ করেছেন আর এ ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিএডিসি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার।
ফসল রক্ষায় গতবছর নিজস্ব অর্থায়নে খালে অস্থায়ী বাঁধ দিয়েছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে রাবার ড্যাম প্রকল্প, ফলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফোটার কথা থাকলেও দাঁড়িয়েছে উল্টোটা। এ জন্য ঠিকাদার আর বিএডিসি সীমাহীন দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক মো. গাফফার, মো. জুয়েল, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, রাবার ড্যামটির নিজ থেকে পানি এসে মাঠ তলিয়ে যায়। পানি ধরে রাখতে পারছে না ড্রামে। তাই জোয়ারের পানির চাপে আমরা মাঠে কাজ করতে পারি না। এক ঘণ্টা কাজ করে আমাদের চলে যেতে হয়। পানি আটকানোর জন্য আমরা ফসল রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধ দিয়েছিলাম পানির স্রোতে তা ভেঙে যায়।
কর্ণখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাসিমা বেগম জানান, রাবার ড্যাম নষ্ট হওয়ায় এখান থেকে সারা দিন ট্রলারে করে আসা-যাওয়ায় আমাদের চলাচলের রাস্তা ভেঙে খালে বিলীন হয়ে গেছে এবং আমাদের পারিবারিক কবরস্থান খালে ভেঙে গেছে। কর্ণখালী খালে বিলীন হওয়া বসতবাড়ির মালিক শেলিনা বেগম জানান, রাবার ড্যাম বানানের সময় আমার খালের পাড়ে বড় একটি ঘর ছিল, ওই ঘরটি তারা কাজের সময় ভেঙে ফেলে আর আমাকে বলে, একটা নতুন ঘর করে দেবো; কিন্তু কাজ শেষে তারা আমাকে ঘর করে দেয় নাই এখন আমি অন্যের ঘরে থেকে বসবাস করি।
এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি ঠিকাদার বায়জিদ খানের।
বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, রাবার ড্যামটি ত্রুটিপূর্ণ, এটি সংস্কারে অর্ধকোটি টাকার একটি প্রস্তাব জমা দেয়া হয়েছে। ওটা যদি আমরা বরাদ্দ পাই তখন ওটা মেরামত করা হলে কৃষকরা কিছুটা সুফল পাবেন।
টিএইচ