শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫
ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
The Daily Post

ফেনীকে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আসছে মেগা প্রকল্প

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীকে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় আসছে মেগা প্রকল্প

ফেনীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গ এলে এখনও আঁতকে ওঠেন অনেকে। এ জেলাকে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে মেগা প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। গত শনিবার শহরের একটি কনভেনশন হলে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন সমীক্ষার খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তাবিত খসড়া প্রকল্পে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর যৌথ সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

এতে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন এবং সেচ ব্যবস্থা প্রকল্পের পুনর্বাসনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাবিত অবকাঠামো পরিকল্পনা এবং সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ভূমি অধিগ্রহণ ব্যতিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্নির্মাণ, নদীর ভাঙকবলিত তীর সংরক্ষণ, জলাধার পুনঃখনন, রেগুলেটর তৈরিসহ ১০ খাতে ৪ হাজার ৬৩৫ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা প্রস্তাবিত ব্যয় উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে বর্তমান বাঁধে গাছ, ঝোপঝাড় দূরীকরণে ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা প্রসঙ্গে তথ্য উপস্থাপন করেন আইডব্লিউএম এর পরিচালক তরুণ কান্তি মজুমদার। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছরের সমীক্ষায় প্রকল্প এলাকার আয়তন ৫৫৭ বর্গ কিলোমিটার। প্রকল্প এলাকায় খাল রয়েছে ১৮৪টি, দৈর্ঘ্য ৫০০ কিলোমিটার। গতবছর বন্যায় মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১০২ স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছিল। নদীগুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা কম, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনসহ নানা কারণে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।

প্রকল্পের শেষ স্থান ধরা হয়েছে মুহুরী রেগুলেটর, যেখানে ২০ ব্যান্ডের আরও একটি রেগুলেটরের প্রস্তাব করা হয়েছে। খাল খনন, নদী খনন, জলাধার তৈরিসহ বিভিন্ন কারিগরি দিক উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়েছে। সেচ প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন পানিসম্পদ গবেষণাভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিইজিআইএস কর্মকর্তা নওশিন তাবাসসুম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্প পরিচালক শরীফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পূর্বাঞ্চল, কুমিল্লা)। অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. এনায়েত উল্লাহ ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, নকশা ও গবেষণা) মো. জহিরুল ইসলাম এবং ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন, পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব, সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমসহ নদী তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষজন।

এ সময় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকতাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

টিএইচ